ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যা পুরো অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। শুক্রবার রাতে তেহরানের বিভিন্ন এলাকা কেঁপে ওঠে প্রবল বিস্ফোরণের শব্দে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের পর রাজধানীর আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়।
ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানায়, শুধু তেহরান নয় — ইস্পাহান, কোম, কারাজ এবং কেরমানশাহ শহরেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এসব শহর ইরানের সামরিক ও শিল্পক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট এবং জমহুরি (রিপাবলিক) এলাকায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশপাশের ভবনগুলো কেঁপে ওঠে এবং অনেক মানুষ আতঙ্কে ঘর থেকে বের হয়ে আসে।
ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, রাজধানীর অন্তত দুটি স্থানে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটেছে। কেন্দ্রস্থল থেকে কালো ধোঁয়া আকাশে উঠে যেতে দেখা গেছে। তবে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো সরকারিভাবে স্পষ্ট কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, ইসরায়েল তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। শুক্রবার রাতে রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী হামলার দায় স্বীকার করে জানায়, তারা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান চালিয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেন, ইসরায়েল রাষ্ট্রের ওপর আসন্ন হুমকি প্রতিহত করতে এবং সম্ভাব্য বিপদ আগেভাগে নির্মূল করার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে।
২০২৬ সালে ফিতরা কত, জানুন
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা বৈরী সম্পর্ক নতুন করে সংঘাতের দিকে গড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে বিস্ফোরণের পর রাজধানী তেহরানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন, সামরিক স্থাপনা এবং কৌশলগত এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিস্ফোরণের শব্দ এবং ধোঁয়ার ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেছেন। এসব দৃশ্যে দেখা যায়, রাতের আকাশে আগুনের ঝলকানি এবং ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে।
তবে এখন পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং তদন্ত চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
আরো পড়ুন
0 মন্তব্যসমূহ