দৌলতদিয়া সর্বশেষ আপডেট , ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ বহু
দৌলতদিয়ায় ফেরিতে ওঠার সময় পদ্মায় বাসডুবি:
মুহূর্তেই তলিয়ে গেল পুরো বাস, স্বজনদের কান্নায় ভারী দৌলতদিয়া ঘাট
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় পদ্মা নদীতে বাসডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে প্রশাসন। বুধবার (২৫ মার্চ) দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ রাজিব আহসান।
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে ৫ জন পুরুষ এবং ১১ জন নারী রয়েছেন। ডুবে যাওয়া বাসটির ভেতর থেকে ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আরও দুইজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়ার কুমারখালি থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় ছিল। বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে হঠাৎ করেই বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তলিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটে যে বাসের যাত্রীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে বাসটিতে থাকা অনেক যাত্রী আটকা পড়ে যান। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসটিতে প্রায় ৬০ জন যাত্রী ছিলেন, যার মধ্যে অনেকেই এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, নৌ পুলিশ এবং ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। রাতভর চলা এ অভিযানে ধীরে ধীরে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে অন্ধকার, নদীর স্রোত এবং গভীরতার কারণে উদ্ধার কাজে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবদুল ইসলামকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। উভয় কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ রাজিব আহসান জানান, “তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরই আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারব ঠিক কী কারণে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে ঘটনাস্থলে এখনো চলছে উদ্ধার অভিযান। নিখোঁজদের খোঁজে নদীতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। অনেকেই নদীর তীরে দাঁড়িয়ে প্রিয়জনের সন্ধানের অপেক্ষায় রয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল থাকায় এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা দ্রুত নিরাপত্তা জোরদার এবং দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এই মর্মান্তিক বাসডুবির ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
দৌলতদিয়া পদ্মা নদীতে বাস দুর্ঘটনা,রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় ফেরিতে ওঠার সময় পদ্মা নদীতে বাসডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে প্রশাসন। নিখোঁজদের খোঁজে চলছে অভিযান।
0 মন্তব্যসমূহ