নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে একই পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
নিহতরা হলেন হাবিবুর রহমান, তার স্ত্রী পপি খাতুন, তাদের নয় বছর বয়সী ছেলে পারভেজ এবং তিন বছরের কন্যা সাদিয়া আখতার। গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা তাদের গলা কেটে হত্যা করে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রতিবেশীরা বাড়ির ভেতরে তাদের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং তদন্ত শুরু করে।
নিহতদের বাড়িটি একটি মাটির ঘর, যেখানে তারা পরিবারসহ বসবাস করতেন। ঘটনার সময় কেউ কিছু টের পাননি বলে দাবি করছেন স্বজনরা। একই বাড়িতে বসবাস করা হাবিবুর রহমানের বাবা নমিরুদ্দিন বলেন, “সকালে দরজা খোলা দেখে ভেতরে গিয়ে দেখি রক্ত পড়ে আছে। কীভাবে কী হয়েছে আমি কিছুই জানি না। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।
স্বজন ও প্রতিবেশীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তারা জানান, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে জমি ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ চলছিল।
তবে এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না, ঠিক কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। পুলিশ বলছে, ঘটনাটি পরিকল্পিত হতে পারে এবং এর পেছনে পারিবারিক বা সামাজিক কোনো দ্বন্দ্ব থাকতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক দল ঘটনাটি তদন্তে মাঠে নেমেছে। ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের বাবা নমিরুদ্দিন এবং হাবিবুর রহমানের ভাগ্নে সবুজকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। এটি ডাকাতি বা সাধারণ অপরাধ নয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পারিবারিক বা সামাজিক কোনো দ্বন্দ্ব এর পেছনে থাকতে পারে।”
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আশপাশের গ্রামের মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করছেন এবং দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, এমন মর্মান্তিক ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। তারা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধ করতে সাহস না পায়।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং শিগগিরই বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
0 মন্তব্যসমূহ