Header Ads Widget

Responsive Advertisement

খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের ভয়াবহ প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি

 



মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এক ঐতিহাসিক মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-এর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো দেশজুড়ে গভীর শোকের আবহ নেমে এসেছে। রাজধানী তেহরান থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রদেশে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলোতে শোকবার্তা প্রচার করা হচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলোতে পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। সাধারণ মানুষও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন।

তবে শোকের এই আবহের মধ্যেই নতুন এক ঘোষণা ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভুলেশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আক্রমণাত্মক অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে। সংস্থাটির এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে অস্থিতিশীল করে তুলেছে।

ইরানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ-এর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই অভিযান যে কোনো মুহূর্তে শুরু হতে পারে এবং তা অঞ্চলজুড়ে বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তু কেন্দ্র করে পরিচালিত হবে।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি আর নেই? বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া 

এর আগে শনিবার সকালে খামেনির প্রাসাদ লক্ষ্য করে হামলার খবর প্রকাশিত হয়। ওই হামলার পর থেকেই পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

পরবর্তীতে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খামেনির নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

তবে প্রথম দিকে ইরান সরকার এ ধরনের খবর অস্বীকার করে। পরে দেশটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সূত্রগুলো দাবি করেছে।

এই ঘোষণার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশেষ করে ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আইআরজিসি যদি তাদের ঘোষিত অভিযান বাস্তবায়ন করে, তাহলে তা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। এতে বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বৃহৎ আকারের যুদ্ধ শুরু হতে পারে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

বর্তমানে সবার নজর—ইরান কী ধরনের পদক্ষেপ নেয় এবং বিশ্ব শক্তিগুলো কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়।

মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটময় পরিস্থিতি যেকোনো সময় নতুন মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরো পড়ুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ