Header Ads Widget

Responsive Advertisement

ময়মনসিংহ মেডিকেলে ৬ তলা থেকে পড়ে অজ্ঞাত নারীর মৃ’ত্যু

 


ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ৬ষ্ঠ তলা থেকে পড়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী মৃ’ত্যুবরণ করেছেন। বুধবার দুপুরের দিকে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি হাসপাতালজুড়ে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে হঠাৎ একটি ভারী কিছু পড়ার শব্দ শুনে অনেকে চমকে ওঠেন। মুহূর্তের মধ্যে হাসপাতালের নিচতলায় ভিড় জমে যায়। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, এক নারী গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, পড়ে যাওয়ার আঘাত ছিল অত্যন্ত গুরুতর। ঘটনাস্থলেই তার মৃ’ত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিহত নারীর পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। তার বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার সঙ্গে কোনো স্বজন ছিলেন কি না বা তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন কিনা—এসব বিষয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়। পুলিশ এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং লা’শ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নেয়। প্রাথমিকভাবে এটি দুর্ঘটনা নাকি আত্মহ’ত্যা—তা নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। পুরো বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ঘটনার সময় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে উপস্থিত কয়েকজন জানান, ভবনের উপরের দিকে কিছু লোকজনকে চলাফেরা করতে দেখা গিয়েছিল। তবে ওই নারী একা ছিলেন কি না, তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। হাসপাতালের প্রতিটি করিডোর ও সিঁড়ি এলাকার ভিডিও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে জানা চেষ্টা করা হচ্ছে, কীভাবে তিনি ৬ষ্ঠ তলায় গিয়েছিলেন এবং কী পরিস্থিতিতে নিচে পড়ে যান।

নতুন ভবনটি আধুনিক নকশায় নির্মিত হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টি এখন আলোচনায় এসেছে। হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত স্থানে প্রতিদিন হাজার হাজার রোগী ও স্বজনের যাতায়াত থাকে। ফলে ভবনের উন্মুক্ত অংশগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট ছিল কি না—সেই প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, নিহত নারীর পরিচয় শনাক্তে আশপাশের থানাগুলোতে যোগাযোগ করা হয়েছে। কোনো নিখোঁজ ডায়েরি রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। তার পরনে থাকা পোশাক ও অন্যান্য আলামত সংরক্ষণ করে তদন্ত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

ঘটনার পর হাসপাতালের পরিবেশ কিছু সময়ের জন্য ভারী হয়ে ওঠে। অনেক রোগী ও স্বজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে প্রশাসনের তৎপরতায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করা হয় এবং চিকিৎসা কার্যক্রম চালু থাকে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। প্রয়োজনে ভবনের বিভিন্ন অংশে অতিরিক্ত নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হবে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর নিহত নারীর পরিবারের কাছে লা’শ হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এখন সবার অপেক্ষা তদন্তের ফলাফলের দিকে—ঠিক কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, সেটিই স্পষ্ট করবে পরবর্তী অনুসন্ধান।

আরো পড়ুন 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ